বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফরিদপুরে মসজিদের ভেতর মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড মধুখালীতে মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি, খোয়া গেল রাধা-গোবিন্দের পিতলের মূর্তি ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে কাজ করার আশ্বাস দিলেন আফজাল হোসেন খান পলাশ ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়-দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ মধুখালীতে ফারিয়ার প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মধুখালী বাসীকে উন্নয়নের আশ্বাস দিলেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে জেলা পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ, আক্রান্ত ১১৩৬ ফরিদপুরে নিখোঁজ স্ত্রী-কন্যাকে উদ্ধার, পুলিশ ও মিডিয়াকে স্বামীর কৃতজ্ঞতা মায়ের হাত ধরে বেরিয়ে নিখোঁজ জুহি, ১০ দিনেও মেলেনি সন্ধান

ফরিদপুরে মসজিদের ভেতর মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১.৫৯ পিএম
  • ৫২ Time View

ফরিদপুরে মসজিদের ভেতর মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাফেজ মাওলানা আলী হোসেন (৫৯) নামে এক মসজিদের ইমামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলী হোসেন ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার বড় কামইদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন একটি টিনের ঘরে সে মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি সালথা উপজেলার বাগেুনূরী মদিনা কওমী মাদ্রাসার হেফজখানার ছাত্র ছিল। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে শিশুটি তার বাড়ির পাশে আলী হোসেনের দোকানে যায়। এ সময় কৌশলে শিশুটিকে দোকানের পাশে মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান আলী হোসেন। মসজিদের ভেতরে চৌকির ওপর শুইয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইমামকে আটম করে থানায় নেয়।
এই ঘটনায় ওই দিনই (৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩) ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আলী হোসেনকে একমাত্র আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক(এসআই )নূর মোহাম্মদ। তদন্ত শেষে আলী হোসেনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র(চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষ করে আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।রায় ঘোষণার পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ( পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন,এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তায় এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এসব অপরাধ দমনে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

jmit_16013
© All rights reserved © 2026
Design & Developed by : JM IT SOLUTION