চন্দনা ২৪-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রভাবে : মধুখালীতে ৮ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নিজস্ব প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে কলেজ চলাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষক উপস্থিত না থাকার বিষয়ে ‘চন্দনা ২৪’-এ একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের।
এর জেরে কলেজ শাখার ৭ জন প্রভাষক ও প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৮ জনকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আওয়াল আকন।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কলেজ খোলা থাকার কথা থাকলেও প্রতিবেদক সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক নজিরবিহীন ও হতাশাজনক চিত্র। কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। গোটা কলেজ শাখা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা ও তালাবদ্ধ।
‘চন্দনা ২৪’-এ এই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তা মধুখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নির্দেশে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিন পরিদর্শনে যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আওয়াল আকন। সে দিনও কলেজ শাখা সম্পূর্ণ ফাঁকা পাওয়া যায় এবং হাজিরা খাতায় কোনো শিক্ষকের স্বাক্ষর ছিল না। এমনকি খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেদিনও কোনো শিক্ষক কলেজে উপস্থিত হননি।
তদন্তে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সত্যতা পাওয়ায় গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আওয়াল আকনের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
যাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে:
কলেজ শাখার অনুপস্থিত ৭ জন প্রভাষক হলেন—
১. মনিরুল ইসলাম (প্রভাষক, হিসাব বিজ্ঞান)
২. সালেহা জেসমিন (প্রভাষক, অর্থনীতি)
৩. জেসমিন নাহার (প্রভাষক, সমাজকর্ম)
৪. লাকী খাতুন (প্রভাষক, পৌরনীতি ও সুশাসন)
৫. জাহিদুল ইসলাম (প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি)
৬. মুন্নু মৃধা (প্রভাষক, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা)
৭. দেবদাস কুমার বিশ্বাস (প্রভাষক, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন)
এছাড়া একই সময়ে পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় বিধিবহির্ভূতভাবে ফ্লুইড (হোয়াইটনার) ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম মৃধাকেও পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ০৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আওয়াল আকন জানান, কলেজ শাখার পূর্বে অনুপস্থিত থাকা কয়েকজন শিক্ষকের বিষয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। তবে চলমান এই অনিয়মের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া না গেলে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
‘চন্দনা ২৪’-এ সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবক মহলে বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply