ফরিদপুরের চরাঞ্চলে তিন যুগ ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে উদ্যোক্তা ও শিক্ষক সম্মানিত
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
সময়টা আশির দশকের শেষ ভাগ। ফরিদপুরের চরাঞ্চল খ্যাত সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দাবী ওঠে। সে দাবীর প্রেক্ষিতে সেখানকার বর্ধিষ্ণু পরিবারের সন্তান মো. আখতারুজ্জামান খাঁনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা পায় গোলাপবাগ। পর্যায়ক্রমে গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও একটি মাধ্যমিক মহিলা বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, চিকিৎসা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাকালেই গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে মো. কবিরুল আলম এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে মো. নুরুল ইসলাম যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ তিন যুগের অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত থেকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে কিছু দিনের ব্যবধানে সম্প্রতি তারা অবসরে যান।
মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয় চত্বরে ওই দুই শিক্ষককে সম্মাননা দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর শিক্ষা ও সামাজিকভাবে পশ্চাতপদ এলাকায় “গোলাপবাগ” স্থাপন করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোকে আলোর পথ দেখানো এবং প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠাগুলোর তত্বাবধান এবং উন্নয়নে ভুমিকা রাখার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষানুরাগী হিসেবে সংবর্ধনা দেয়া হয় প্রতিষ্ঠাতা মো. আখতারুজ্জামান খাঁনকে। এ সংবর্ধনা স্মৃতিময় করে রাখতে হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আলী রেজা খাঁনের সভাপতিত্বে উপস্থিত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাছিমা আক্তারসহ বক্তারা বলেন, আখতারুজ্জামান খাঁন ও তার পরিবার গোলাপবাগ স্থাপন না করলে অত্র চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও সামাজিকতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়তো। তারা বলেন, গোলাপবাগের প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার ও সভ্যতার আলো ছড়াচ্ছে এতদাঞ্চলে।
এসময় তারা আরো বলেন, বিদ্যালয়ের সুচনালগ্ন থেকে সেবা দেয়া শিক্ষকদ্বয়সহ সবার আন্তরিকতায় আজ গোলাপবাগ সভ্যতার দৃষ্টান্ত হতে পেরেছে। তারা শিক্ষকদ্বয়ের সু-স্বাস্থ্য কামনা করেন।
এসময় নিজেদের অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সংবর্ধিতরা আবেগী হয়ে পড়েন। তারা গোলাপবাগের অগ্রযাত্রায় শামিল থাকার প্রত্যয় ও এলাকার সমৃদ্ধি কামনা করেন।
Leave a Reply