বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জিনের বাদশা’ ও তান্ত্রিক সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক মধুখালীবাসীর ভালোবাসার স্মারক: উপজেলা পরিষদে নান্দনিক ‘আই লাভ মধুখালী’র উদ্বোধন মেগচামীতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও কুশল বিনিময় করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ সবুজ ফরিদপুরে সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। তাহিরপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিলেন বিএনপি নেতা ডা. শামসুদ্দিন ফরিদপুরে পল্লী বিদ্যুতের অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, সতর্ক ১৭ দোকানি ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৩, ভর্তি হাসপাতালে একটি সেতুর অভাব, বোয়ালমারীতে চরম ভোগান্তিতে ৯ গ্রামের বাসিন্দারা শফি-দাউদ পরিষদের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী, ফরিদপুর চিনিকল আখচাষী নির্বাচনে বাজিমাত ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় রাকেশ নামের এক যুবকের মৃত্যু

জিনের বাদশা’ ও তান্ত্রিক সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

  • Update Time : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪.৫৮ পিএম
  • ৭১ Time View

‘জিনের বাদশা’ ও তান্ত্রিক সেজে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের জালে ২ প্রতারক

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:

কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হন। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তাঁর পরিচিত ‘বিজয় বাবু’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ফোন দিয়ে ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে এবং প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন রশিদুল ইসলাম।

এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এবং উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খানের তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটি ভুয়া পরিচয়ে সিম নিবন্ধন করে প্রতারণার পর সেগুলো ফেলে দিত। গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো এবং তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল তাদের প্রতারণার অন্যতম কৌশল।

চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের কেউ ফোন করে মানুষকে ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত, আবার অন্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত।

পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

jmit_16013
© All rights reserved © 2026
Design & Developed by : JM IT SOLUTION