বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মধুখালীতে ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধুখালীতে জুলাই গণ”অভ্যু-ত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা মধুখালীতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ৬৭২ প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন ৯০ জন ফরিদপুর বৃক্ষমেলায় মাত্র ২ টাকায় মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির চারা মধুখালীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশের দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান শ্রমজীবী ইউনিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ সংগ্রাম পরিষদের ১১ জন নেতার শ্রমিক -কর্মচারী পরিষদে যোগদান ঝুঁকিতে বামুন্দি বালিয়াকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়: বৃষ্টিতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ১৪ বছর পর রায় ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতাকে হ-ত্যা মামলায় তিনজনের মৃ/ত্যু:দ/ণ্ড মধুখালীতে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অভিযানে নেতৃত্ব দিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিন্দুপাড়ায় নতুন সাঁকু নির্মাণে এলাকাবাসীর স্বস্তি

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • Update Time : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩.০৫ পিএম
  • ২৮৮ Time View

ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মো. লালন মোল্লা (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. লালন মোল্লা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর মহল্লার বাসিন্দা। সেখানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাসার পাশের একটি ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে নিহত স্ত্রীর নাম সাজেদা বেগম (৪০)।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা গেছে, সাজেদা বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামে। ২০০৪ সালে সাজেদাকে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। তিনি লালনের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। লালন এর আগে একটি বিয়ে করেন। সেখানে তার ৩৪ বছর বয়সী পিকুল মোল্লা নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।
মামলার এজাহার সুত্রে আরও জানা যায়,বিয়ের পর থেকেই মাদক গ্রহণের টাকার জন্য সাজেদাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দিতে বলতেন লালন। কয়েকবার তিনি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকাও এনে দেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেন লালন। এই টাকার জন্য কয়েকবার তাকে মারধরও করেন তিনি। তবে টাকা এনে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন লালন।
এ ঘটনায় ওই দিনই (২৩ আগস্ট) হত্যাকাণ্ডের শিকার সাজেদার ছোট বোন মাজেদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় যৌতুকের দাবিতে বোনকে হত্যার অভিযোগে লালন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি লালন মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যৌতুকের প্রবণতা কমাতে এবং অপরাধ করলে যে অবশ্যই সাজা পেতে হবে, এ রায়ের মাধ্যমে সেই বার্তা সমাজে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর ফলে সমাজে এ ধরনের অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

jmit_16013
© All rights reserved © 2026
Design & Developed by : JM IT SOLUTION